রাতে ভালো ঘুমের জন্য কার্যকরী কিছু ঘরোয়া উপায়
অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় সমস্যা। সারাদিন কাজ শেষে বিছানায় গিয়েও এপাশ-ওপাশ করা কিন্তু আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রাকৃতিকভাবে এবং ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে গভীর ও প্রশান্তিময় ঘুম নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।
১. ডিজিটাল ডিটক্স বা স্ক্রিন টাইম কমানো
ঘুমের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন, ল্যাপটপ বা টিভি বন্ধ করে দিন। ডিভাইসের ব্লু-লাইট মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে এবং ঘুম আসার হরমোন নষ্ট করে। এই সময়টিতে ফোন দূরে রেখে কোনো বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।
২. সঠিক পরিবেশ তৈরি করা
শোবার ঘরটি অন্ধকার, শান্ত এবং আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন। সুতির আরামদায়ক বিছানা এবং পরিষ্কার বালিশ ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে হালকা সুগন্ধি বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
রাতে ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। ক্যাফেইন বা কফি জাতীয় পানীয় বিকেল ৪টার পর এড়িয়ে চলাই ভালো। ঘুমানোর আগে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করতে পারেন, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘুম আনতে সাহায্য করে।
৪. রিলাক্সেশন টেকনিক ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ
বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ শ্বাস নেওয়ার প্র্যাকটিস করুন। ৪-৭-৮ ব্রিদিং টেকনিক (৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখা এবং ৮ সেকেন্ডে ছাড়া) আপনার নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করবে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করবে।
৫. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস
ছুটির দিন হোক বা কাজের দিন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীরের ইন্টারনাল ক্লক বা বায়োলজিক্যাল রিদম ঠিক থাকবে, ফলে বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথেই শরীর ঘুমের জন্য তৈরি হয়ে যাবে।
লেখকের শেষ কথা: ঘুম বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। একটি ভালো ঘুম আপনার পরের দিনের কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ করে দেয়। তাই আজ রাত থেকেই নিজের জন্য একটি সুন্দর ঘুমের রুটিন তৈরি করুন।

ফিউচার ড্রীম আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url