সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৫টি অসাধারণ বৈজ্ঞানিক টিপস
"Early to bed and early to rise..."—প্রবাদটি আমরা সবাই জানি, কিন্তু বাস্তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠা অনেকের কাছেই যুদ্ধের মতো। সকালে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা আপনার প্রোডাক্টিভিটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
১. স্লিপ সাইকেল বা ঘুমের চক্র বোঝা
মানুষের ঘুম ৯০ মিনিটের বিভিন্ন চক্রে বিভক্ত। আপনি যদি গভীর ঘুমের মাঝে অ্যালার্ম বাজিয়ে জেগে ওঠেন, তবে সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করবেন। তাই আপনার ঘুমের সময়টি এমনভাবে নির্ধারণ করুন যাতে একটি চক্র পূর্ণ হওয়ার পর আপনি জাগতে পারেন।
২. ফোনকে বেডরুমের বাইরে রাখা
ঘুমের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে নীল আলো বা ব্লু-লাইট থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের আলো আমাদের শরীরের 'মেলাটোনিন' হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা ঘুমের জন্য দায়ী। সকালে ফোন হাত দিয়ে ধরার বদলে একটি এনালগ ঘড়ি ব্যবহার করুন।
৩. সূর্যের আলোর প্রভাব
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই জানালার পর্দা খুলে দিন বা বারান্দায় যান। প্রাকৃতিক আলো আমাদের মস্তিষ্ককে বার্তা দেয় যে দিন শুরু হয়েছে। এটি আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
৪. হাইড্রেটেড থাকা ও সঠিক ডায়েট
রাতে হালকা খাবার গ্রহণ এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস জল পান করা শরীরকে সতেজ করে তোলে। ক্যাফেইন বা কফি পানের অভ্যাস রাতে পরিহার করুন যাতে ঘুমের মান ভালো হয়।
৫. একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নির্ধারণ
কেন আপনি সকালে উঠবেন? আপনার যদি সকালে কোনো প্রিয় কাজ (যেমন- ব্যায়াম, বই পড়া বা বাগান করা) থাকে, তবে মস্তিষ্ক নিজ থেকেই আপনাকে জাগিয়ে তুলতে উৎসাহী হবে।
লেখকের শেষ কথা: সকালে ঘুম থেকে ওঠা কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি নিজেকে সময় দেওয়ার একটি উপহার। প্রথম কয়েকদিন কষ্ট হলেও ২১ দিন নিয়মিত অভ্যাস করলে এটি আপনার জীবনযাত্রার অংশ হয়ে যাবে। একটি সুন্দর সকাল মানেই একটি সফল দিনের শুরু।

ফিউচার ড্রীম আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url