কম খরচে ঘুরে আসুন সাজেক পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড
পাহাড়ের মেঘ ছুঁতে কার না ভালো লাগে? বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলো সাজেক ভ্যালি। অনেকেই মনে করেন সাজেক ভ্রমণ মানেই অনেক খরচ। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা এবং কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আপনি খুব কম বাজেটেই সাজেকের মেঘের রাজ্যে ঘুরে আসতে পারেন।
১. ভ্রমণের সঠিক সময় ও যাতায়াত
সাজেক যাওয়ার জন্য অফ-পিক সিজন (যেমন- বর্ষাকাল বা শীতের শুরু) বেছে নিন। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে খাগড়াছড়ি এবং সেখান থেকে জিপ বা চাঁন্দের গাড়িতে করে সাজেক যেতে হয়। গ্রুপে গেলে চাঁন্দের গাড়ির খরচ ভাগ হয়ে যায়, যা আপনার বাজেট অনেক কমিয়ে দেবে।
২. সাশ্রয়ী মূল্যে থাকার জায়গা
সাজেকের মেইন রোডের রিসোর্টগুলোর দাম সাধারণত অনেক বেশি হয়। একটু ভেতরে বা কংলাক পাহাড়ের কাছের কটেজগুলোতে থাকলে আপনি অর্ধেকেরও কম দামে ভালো রুম পেতে পারেন। আগে থেকে বুকিং না করে সরাসরি গিয়ে দরদাম করাটা অনেক সময় লাভজনক হয়।
৩. খাওয়া-দাওয়া ও লোকাল ফুড
সাজেকে ব্যাম্বু চিকেন বা পাহাড়ী খাবার বেশ জনপ্রিয়। বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে না খেয়ে স্থানীয়দের পরিচালিত ছোট হোটেলগুলোতে খেলে আপনি খাঁটি পাহাড়ি স্বাদ পাবেন এবং খরচও অনেক কম হবে। নিজের সাথে কিছু শুকনো খাবার এবং পানির বোতল রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. সাইটসিয়িং ও অ্যাক্টিভিটি
সাজেকে হ্যালিপ্যাড, কংলাক পাহাড় এবং পাহাড়ি ঝরনাগুলো ঘুরে দেখার জন্য আলাদা করে গাইড নেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নিজেরা হেঁটে বা চাঁন্দের গাড়িতে করে ঘুরে দেখতে পারেন। কংলাক পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত দেখা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
৫. বাজেট টিপস ও সতর্কতা
সব সময় গ্রুপে ভ্রমণ করার চেষ্টা করুন। ১০-১২ জনের গ্রুপ হলে খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া পাহাড়ে নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যুৎ সমস্যা থাকে, তাই সাথে পাওয়ার ব্যাংক এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ অবশ্যই রাখবেন।
লেখকের শেষ কথা: ভ্রমণ মানেই বিলাসিতা নয়, ভ্রমণ হলো মনকে সতেজ করা। সাজেকের পাহাড় আর মেঘ আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে। প্রকৃতিকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদেরই, তাই ভ্রমণে গিয়ে প্লাস্টিক বা ময়লা যত্রতত্র ফেলবেন না।

ফিউচার ড্রীম আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url